বিশেষ প্রতিনিধিঃ যুক্তরাজ্যের স্লোও নগরীর আড্যাম নামের এক অনলাইন ব্যবসায়ী মুঠোফোনে অভিযোগ করেছেন, খোকসা কুমারখালীর আজমত আলীর ছেলে সুজন মাহমুদ (২৪) নামের এক ব্যক্তি তার পেপাল, এমাজন ও পেয়োনির একাউন্ট হ্যক করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন । আড্যাম জানান, চৌড়হাস ফুলতলার জামান নামের এক ব্যক্তির সাথে গত ৫ বছর আগে তার পরিচয় হয় পরে জামান তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে কাজ শুরু করেন । জামানের সাথে সম্পর্ক খারাপ হবার পরে এই সুজন মাহমুদের সাথে তার পরিচয় হয়, তবে তিনি উল্লেখ করেন সুজন জামানের বন্ধু । ফলে জামান এবং সুজন উভয়ে তার ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে তার এই অনলাইন একাউন্ট গুলো হ্যক করে অর্থ উঠিয়ে নেন । এদিকে আড্যাম যুক্তরাজ্য থেকে বিভিন্ন উপায়ে সুজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও বার বার ব্যর্থ হয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন ।

আড্যাম ধারনা করছেন তার এমাজন ও পেয়োনিরা থেকেই ২৫০০০ ডলারের মত অর্থ লেনদেন হয়েছে একাউন্ট হ্যাক হবার পরে ।  জামানের বাবার সাথে তিনি যোগাযোগ করলে জামানের বাবা বলেন, সুজন জামানের বন্ধ ছিল, বিভিন্ন সময়ে অসময়ে আমাদের বাসায় তার যাতায়াত ছিল, যার জন্য জামানের ল্যাপটপ টি সে নিজে তার বাড়ীতে নিয়ে যেয়ে ব্যবহার করেন। ফলে জামানের ব্যবহারিত ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট নির্বিধায় সে ব্যবহার করেছে । এবং সেখান থেকেই তার পেয়োনিয়ার নেটেলার আমাজন ও পেপাল একাউন্ট হ্যাকিং সম্পন্ন করেন । আড্যাম নামের ঐ ব্যক্তি যোগাযোগের পরে আমি জানতে পারি সুজন জামানের কাছ থেকে তথ্য চুরি করে একাউন্ট হ্যাক করেছেন এবং অর্থ  উঠিয়ে নেবার চেষ্টা করেছন । জামানের পিতার সাথে কথাপোকথনের কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরা হলো ।

আড্যামঃ আপনি বলেছেন তার কাছে ল্যাপটপ ও গ্রামীনের মডেম পেয়েছেন?
রাইসুল ইসলামঃ জ্বি ।
রাইসুল ইসলামঃ ওটা আমি নিয়ে এসেছি সুজনের কাছ থেকে । পরে আমি জানতে পারি জামানের বন্ধু সুজন ঐ ল্যাপ্টপ চালাতো
রাইসুল ইসলামঃ আগে থেকেই তার ল্যাপটপটি নিয়ে গেছিল সুজন ।
জার্নালিস্টঃ আপনি কি সুজন কে জিজ্ঞেস করেছেন সে কি কি একাউন্ট হ্যাক করেছে? পায়োনিয়ার, নেটেলার আমাজন কিনা?
রাইসুল ইসলামঃ হ্যাঁ, এগুলোই বলেছে ।
আড্যামঃ আপনি বলেন কি কি একাউন্ট হ্যাক করার কথা শুনেছেন?
রাইসুল ইসলামঃ পায়োনিয়ার ।

যুক্তরাজ্যের ঐ ব্যক্তি বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কে তিনি আফ্রিকার চোখে দেখেন, অনেকেই এই ধরনের কাজ করার কারনে বাংলাদেশিয় ফ্রিল্যান্সারদের প্রাই ৯৮ জন ব্যক্তিকে তার কোম্পানি থেকে অব্যহতি দিয়েছেন ।

তিনি আরো বলেন এই সমস্যায় পৃথিবীর বড় ফ্রিল্যান্সার মার্কেট প্লেস আপোয়ার্ক বাংলাদেশর একাউন্টও নজরদারিতে রেখেছেন অতিরিক্ত যাচায় বাছায় করার পরে তারদের একাউন্ট চালু করার অনুমতি দিচ্ছেন । ফলে ফ্রিল্যান্সিং ক্ষাতে বড় সম্ভবনা হারাচ্ছে বাংলাদেশ ।  সুজনের ব্যবহারিত আইপি দিয়ে প্রাথমিক ভাবে তিনি ধারনা করেন সে বাংলালিংক আইপি দিয়েই তার ইয়াহু ও জিমেইল একাউন্ট লগিন করার চেষ্টা করেছেন । একাউন্টে ২য় স্তরের নিরাপত্তা চালু থাকায় সে লগিন করতে ব্যর্থ হন কিন্তু পরে ইয়াহু থেকে তাকে মেসেজ দিয়ে বাংলাদেশের আইপি ঠিকানা উল্লেখ করেন ।

সুজন বাংলাদেশের ফেক আইডি ও পাসপোর্ট তৈরি করেও নাকি এই ধরনের কাজ করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন । এদিকে সুজনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *